ডিহাইড্রেশন কি?  ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে যে সব খাবার খেতে হবে।

ডিহাইড্রেশন: 

আমাদের দেহের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মূলত পানি বা তরল দেহের  তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানাবিধ   শারীরিক চক্র সচল রাখার জন্য  তরল  উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীর থেকে বিভিন্ন উপায়ে পানি বা তরল নিঃসরণ হয়ে থাকে যে কোনও  পরিস্থিতি বা  অবস্থার কারণে  যখন শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি  পানি হ্রাস পায় তখন ডিহাইড্রেশন  হয়। অর্থাৎ দেহ থেকে প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই  ডিহাইড্রেশ বলে।

 কী কী কারণে হয় ডিহাইড্রেশন?

ডিহাইড্রেশন তখনই দেখা দেয় যখন দেহ পানি গ্রহণের চেয়ে ত্যাগ করে  বেশি আবার  দেহের যতটুকু  তরল ত্যাগ করা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি বেরিয়ে  গেলেও একই অবস্থার   সৃষ্টি  হয়  বাইরে বহু সময় পানি না খেয়ে থাকলে পানির অভাব দেখা দেবে  প্রচন্ড গরমে ঘাম, প্রস্রাব, মল এসবের সঙ্গে শরীর থেকে দ্রুত পানি ওলবণ বেরিয়ে গেলে  ডিহাইড্রেশন বা পানিস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 

এই ডিহাইড্রেশনের কারণে কিডনি, মস্তিষ্ক, লিভার, পাকস্থলী,ফুসফুসের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে  ডায়রিয়া, অতিরিক্ত সুর্যের তাপে থাকা, অতিরিক্ত শরীর চর্চার সময় প্রচুর পরিমাণে ঘাম  নির্গত হলে এবং ডায়াবিটিসের কারণেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন। বেশিরভাগ লোকেরা দেহের পানিশূন্যতা তিন থেকে চার ভাগ পর্যন্ত সহ্য করতে পারে।

পাঁচ থেকে আট শতাংশ পানি হ্রাস পেলে ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরতে পারে শরীরের মোট  পানির দশ শতাংশেরও বেশি হ্রাস হলে তীব্র তৃষ্ণার সাথে শারীরিক ও মানসিক অবনতি  ঘটতে পারে। দেহের পানি হ্রাস থেকে পঁচিশ শতাংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। 

ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো কী কী? 

১) প্রচণ্ড পিপাসা পাওয়া। 

২) মুখ ও মিউকাস মেমব্রেন শুকিয়ে যাওয়া। 

৩) মাথা যন্ত্রণা। 

৪) মেজাজ খারাপ হওয়া। 

৫) দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া। 

৬) পেশিতে টান ধরা। 

৭) নিম্ন রক্ত চাপ। 

৮) কোষ্ঠকাঠিন্য। 

৯) অবসাদ ভর করা। 

১০) ঘুম ঘুম ভাব ও ক্লান্তি। 

১১) শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা। 

১২) অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হওয়া। 

১৩) বুক ধড়ফড় করা। 

১৪) প্রসাবের পরিমাণ কমে যাওয়া। 

১৫) প্রসাবের রঙ হলুদ বা গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারন করা। 

১৬) বিভ্রান্তি বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ মানসিক আচরণ করা। 

১৭) খিঁচুনি কিংবা জ্ঞান হারানো। 

--------------------------পানিশূন্যতা প্রতিরোধের খাবার----------------------

ডিহাইড্রেশন কি?  ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে যে সব খাবার খেতে হবে।


ডিহাইড্রেশন রোধে অবশ্যই প্রচুর পানি খেতে হবে সেই সাথে কিছু খাবার আছে যা  ডিহাইড্রেশন রোধে ভূমিকা রাখে। 

বিশুদ্ধ পানি 

যদি শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দেখা দেয় বা পানি স্বল্পতার লক্ষন প্রকাশ পায় তবে নিয়মিত  বিরতিতে পানি পান করা উচিত এতে ডিহাইড্রেশন দূর হবে  গ্রীষ্মের তীব্র গরমে যেহেতু  শরীর থেকে পানি দ্রুত বের হয়ে যায়, তাই এ সময় একটু বেশি পান করাই ভালো এ কারণে প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

আপনার শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক আছে, তা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো -  প্রস্রাবের রং কেমন আছে তা দেখা।যদি প্রস্রাব হলুদাভ হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে পানিস্বল্পতার সৃষ্টি হয়েছে।

 শসা 

শসাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি থাকে শসা খুবই কম ক্যালোরি সম্পন্ন এবং এতে আছে  ভিটামিন কে, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম শসা শরীরের জন্য ডিটক্সাইফায়ার  এটি ডিহাইড্রেশন দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। 

লেটুস 

এতে আছে প্রায় ৯৬% পানি লেটুসে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও কে যা হাড় ও ইমিউন সিস্টেমকেভালো রাখে।আর শরীরকে পানিশূন্য হতে দেয় না একদমই। 

স্ট্রবেরি 

এর ৯১ শতাংশই পানি। এতে আছে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলস।স্ট্রবেরি ডিহাইড্রেশন থেকে দেহকে রক্ষা করে। 

কমলা 

এর ৮৮%-ই পানি।তাছাড়াও এতে আছে ভিটামিন সি, পটাসিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস।ডিহাইড্রেশন ছাড়াও কমলা কিডনিতে পাথর হওয়াও রোধ করে। 

টক দই 

টক দইয়ের প্রায় ৮৮ ভাগই পানি।তাছাড়া আছে ভিটামিনস ও মিনারেলস ও প্রচুর প্রোটিন।টক দই ডিহাইড্রেশন রোধে উৎকৃষ্ট একটি খাবার। 

তরমুজ 

তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের খুবই কার্যকর একটি উৎস এটি।তরমুজ ফাইবার, ভিটামিন-সি, ভিটামিন এ, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট লাইকোপিনে পূর্ণ, যা   শরীরকে হাইড্রেট করার পাশাপাশি ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ওজন কমানোর  জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখে। 

টমেটো 

৯৪ শতাংশই পানি আছে টমেটোর মধ্যে সাধারনত টমেটো সবজি হিসেবে খাওয়া হলেও   কাঁচা টমেটো ভিটামিন A, বি -2, সি, ফোলেট, ক্রোমিয়াম, ফাইবার, পটাসিয়াম এবং  ফাইটোকেমিক্যাল জাতীয় পুষ্টির বহন করে।এটি ক্যানসার, অটোইমিউন ডিসঅর্ডার এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা হ্রাস করে। 

ফুলকপি 

ফুলকপি পুষ্টিকর এবং হাইড্রেটিং একটি সবজি। এতে ৯২% পানি আছে তাই ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে এটি দারুণ কাজ করে তাছাড়া এতে আছে প্রচুর ভিটামিনস ও মিনারলস যা ব্রেইন ও মেটাবোলিজম ভালো রাখে। 

বাঁধাকপি 

৯২ শতাংশই পানি আছে বাঁধাকপিতে এতে আছে ভিটামিন সি ও কে, বিভিন্ন মিনারেলস এবং অ্যান্টি- অক্সিডেন্টস যা  ইনফ্লামেশন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কিছু ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।আর ডিহাইড্রেশন দূরীকরণে এই সবজির জুড়ি নেই। 

ডাব 

ডাবে ৯৫% পানি থাকে।ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে ডাবের পানিকে বলা হয় খুবই কার্যকর ও সুস্বাদু একটি উৎস তাছাড়া এতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ক্লোরাইডও আছে । ব্যায়ামের পর ডাবের পানি একটা এনার্জি ড্রিংকের মতো কাজ করে। 

আম 

গ্রীষ্মের সেরা ফল, যা পুষ্টিতেও পূর্ণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি রয়েছে এতে ভিটামিন এ এবং সি, সোডিয়াম, ফাইবার-সহ ২০টিরও বেশি খনিজ রয়েছে যা তাপ থেকে রক্ষা করে।আম শরীরের জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

লেবু 

প্রচন্ড গরমে লেবু পানি খুব উপকারী এক পানীয়।ঘামের সময় শরীরে পটাসিয়ামের ঘাটতি থাকে যা আমরা লেবু থেকে পেতে পারি।৮৮ শতাংশ জলযুক্ত, এই ফলগুলিতে ভিটামিন সি, এআই, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।লেবু শরীরের পানির ঘাটতি ও শরীর থেকে চলে যাওয়া মিনারেল ঘাটতিও মেটায়। 

স্যুপ 

এই মৌসুমে খাওয়া যেতে পারে প্রচুর স্যুপ মাংসের সাথে নানা মৌসুমি সবজির মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন স্যুপ।স্যুপে যে প্রচুর পানি থাকে সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 

গ্লুকোজ 

গ্লুকোজ ডিহাইড্রেশনেরর ক্ষেত্রে খুবই দ্রুত কার্যকর  গ্লুকোজ পানিতে গুলিয়ে খেলে পানির চাহিদার পাশাপাশি দ্রুত শক্তি ফেরাতেও সাহায্য   করে। 

অ্যালোভেরা জুস 

এলোভেরাতে প্রচুর পরিমানে পানি থাকে তাই অ্যালোভেরা জুস পান করলে ডিহাইড্রেশন সমস্যা দূর হয়।শরীর থেকে দূষিত পদার্থ দূর করতেও সাহায্য করে এই জুস।